মানবতা হলো নীরবে করা সেই উপকার, যার প্রতিদানে কিছুই চাওয়া হয় না—শুধু একজন মানুষের মুখে হাসি ফুটলেই যার পূর্ণতা।

 

মাননীয় এমপি দীপেন দেওয়ান মহোদয়
 

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পাহাড়ি জনপদ রাঙ্গামাটি শুধু পর্যটনের জন্য নয়, নেতৃত্বের জন্যও সুপরিচিত। এই অঞ্চল থেকেই উঠে এসেছেন একজন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও আইনজীবী — দীপেন দেওয়ান। পাহাড়ের মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী পথচলা আজও অনুপ্রেরণার উৎস।

 

জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি

দীপেন দেওয়ান জন্মগ্রহণ করেন ৮ জুন ১৯৬৩ সালে, রাঙ্গামাটিতে। তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্মানিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুবিমল দেওয়ান জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত ছিলেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদিবাসী বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই দীপেন দেওয়ান রাজনৈতিক সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। চাকমা সম্প্রদায়ভুক্ত এই নেতা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

 

শিক্ষা জীবন ও পেশাগত সূচনা

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা রাঙ্গামাটিতেই সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ। পড়াশোনা শেষে তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আদালতে আইনচর্চার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি রাজনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠেন।

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পণ

দীপেন দেওয়ান জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মাধ্যমে। দলীয় রাজনীতিতে তিনি দ্রুতই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, বক্তব্য প্রদানের ক্ষমতা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তাঁকে আলাদা করে তোলে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পদে থেকে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের বিষয়ে কাজ করেন।

 

সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া

রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক আসে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তিনি রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংসদ–এর একজন নির্বাচিত সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আদিবাসীরা বিশ্বাস করেন। 

 

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন

দীপেন দেওয়ান বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়–এর পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে তাঁর কাজ পার্বত্য এলাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শান্তি প্রক্রিয়া জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাঁর নেতৃত্বে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে জনগণের বিশ্বাস।

 

উন্নয়ন ভাবনা ও দর্শন

দীপেন দেওয়ানের রাজনীতির মূল দর্শন হলো — “অধিকার, উন্নয়ন ও সম্প্রীতি।” তিনি বিশ্বাস করেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তিনি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে শিক্ষা ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, দক্ষ ও শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মই পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

 

একজন দূরদর্শী নেতার প্রতিচ্ছবি

দীপেন দেওয়ান শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। স্থানীয় সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা এবং কার্যকর সমাধানের চেষ্টা তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস ও আস্থা রাখি। পাহাড়ি অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই তিনি কাজ করে যাবেন- সেই সফলতা কামনা করি।

পরিশেষে উপাসক বাবু দীপেন দেওয়ান ও তার পরিবারের প্রতি পূণ্যদান করছি। তারা সকলে সুকী সুখী হোক, নীরোগ দীর্ঘায়ু জীবন লাভ করুক। 

 


ভদন্ত সুবর্ণ থের, পরিচালক- পূর্ণজ্যোতি শিশু সদন (অনাথ আশ্রম), বাইন্যাছোলা, লক্ষীছড়ি, খাগড়াছড়ি। 

 

0 Comments:

Post a Comment

Most Popular